বেলা গড়িয়ে


 




ছোটোবেলায় দেখেছি  অস্থিরতার রাজনীতি ।সিপিএমের জুলুম রাজ।দেখেছি মানুষ কিভাবে সিপিএমের হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য আশ্রয় খুঁজত।এসব কথা এখন ইতিহাস ।যাদের দাপটে বাঘে- গরুতে এক ঘটে জল খাত । তাদের এখন অবস্থা আরণ্যক উপন্যাসের দোবরু পান্নার মত । তাই বলি  ক্ষমতার দাস হয়ে যারা মানুষকে  মানুষ বলে গণ্য করে না তাদেরকে ইতিহাস ক্ষমা করে না।  এই অত্যাচার একটি গল্প আজ বলব--

(ঘটনা সত্য কেবল চরিত্রগুলির নাম পরিবর্তন করা হলো।) সিজান নাপিতের একমাত্র কন্যার পাকা দেখা হল সিরকাবাদের শম্ভু পরামানিকের সঙ্গে ।বিয়ে ঠিক হল বৈশাখ মাসের প্রথম দিকে হবে।পণ স্বরূপ নগদ বিশ হাজার টাকা কিছু যৌতুকস্বরূপ অলংকার। নগদ পণ টাকা জোগাড় হলে বাড়ির খরচ এবং অলংকারের টাকা জোগাড় হয়নি। সিজান নাপিত তখন ঠিক করলে একটা ধানী জমি বিক্রি করার ।জমি বিক্রির জন্য খরিদ্দারের খোঁজ পেল। মানিক ময়রা জমিটা কিনবে। 

মানিক সম্মতি হল ।বিয়ের জন্য জমির নাহ্য দাম দিল। টাকা মিটিয়ে দিল। বিয়ের পরে রেজিট্রি। সাক্ষী থাকল নিপু নাপিত। ভালই ভাল বিয়ে পেরিয়ে গেল। মানিক রেজিট্রির জন্য তাড়া দিতে লাগল ।সিজানও দিন ঠেলতে লাগল ।এভাবে দু চারটা কথা বাড়তে লাগল ।মানিক এত টাকা মুখে দিকে চেয়ে দিয়েছে ।মানিকের যে দমে টাকা আছে,তা নয়। ছাগল গরু বিক্রি করে দিয়ে ছিল ।তবুও সেই টাকা হয়েছিল না। ছেলে পিলেদের কুপ(লক্ষীর ভাঁড়) ভেঙে টাকা দিয়েছিল ।

সিজানের মতলব  ভালো ঠেকছে মানিক ভালোভাবে বুঝতে পারছে । নিবুকে নিয়ে একদিন ভালো করে বলতে গেল মানিক কিন্তু সে সেদিন ভালো চোখে নিল না ।সন্ধ্যার সময় তার পার্টির সকল লোককে ডেকে মানিক কে সেই সভার ডাকা হল ।মানিক ভয়ে ভয়ে সে সভা উপস্থিত হল ।দেখা গেল সভায় উপস্থিত আছে সকল সিপিএমের নেতারা । উপস্থিত আছেন রাখাল মাস্টার ।লোক্যাল কিমিটির সেক্রেটারি । আর আছে মজিত সাজিত দুজন এই দাপুটে মস্তান ।

সবার উপস্থিত রাখাল মাস্টার বললেন, শুনলাম মানিক তুই নাকি সিজানকে অপদস্থ করছি।মানিক সবিনয়ে বলল,না মাস্টার আমি বলছিলাম,মেয়ে বিশে তো পার হলো ।এবার আমার রেজেট্রিটা করে দিতে ।

রাখাল বললেন,দূর সামান্য কারনে কী আমাদেরকে ডাকে !কথা লুফে নিয়ে সাজিত বলল,ফালতু কথা ।জমিদার হচ্ছে শালা ।মাজিত বিড়িটা টেনে এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে বলল,জরিমানা কর ।সভার উপস্থিত সকলই তার কথায় জোর দিল । সাজিত বলল ,যে টাকা সিজানের বিটির বিহার জন্নে দিয়েছি সেটা মুকুব হল।সভার সকল বলল, ঠিক বলেছি। হাইকে মাজিত বলল , দাঁড়া, এখইন বাকি আছে ।মাইনকা। তোর ঘরের রুলার পিঁড়্যায় যে খাসিটা বাধা থাকে ওটা লাগবেক ।

মীনিকের আর কিছু বলার থাকল না।পার্টির যে দাপট।তাতে কিছু বললে ঘর ছাড়া হবে ।দৌঁড়তে দৌঁড়তে সাজিত মানিকের দুয়ারে বাঁধা খাসিটা নিয়ে গেল ।

মানিকের ছোট ছেলেটি কেবল ছাগলটির দিকে তাকিয়ে রইল।আগামীকাল থেকে আর কাকে খাওয়াবে তার উচ্ছিষ্ট পাতের ভাত টুকু ।


Comments

Popular posts from this blog

দিদিকে বলো কর্মসূচী

দূর্নীতিটা নতুন নয়