লক্ষ্মীরভাণ্ডার

 সরলা দেবী প্রথম  পশ্চিমবঙ্গের বুকে লক্ষ্মীভাণ্ডার গঠন করেছিলেন ।তাঁর উদ্দেশ্য ও বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য একই হলেও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ একে অসমতার ধ্রুবক বলেছেন ।সরকারের চেয়ারে উপবিষ্ট অর্থনীতিবিদ মনে করেন সাধারণ মানুষকে রিলিফ দেওয়া জন্যএ সময় কিছু অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন ।বেশ,সরকার মেঘ না চাইতে জল।তিনি লেগে পড়লেন ।এটা মোক্ষম সময় ।সামনে নির্বাচন ।ভোট ব্যাঙ্ক ঠিক রাখতে হবে ।

দানছত্র ।কিন্তু এভাবে অর্থদান করে কি সামাজিক উন্নতি ঘটবে ? সকলের মনে প্রশ্ন জাগে ।বর্তমান যে সামাজিক প্রকল্পগুলি আছে,তাতে দেখা গেছে বেশীরভাগেই দান, দান দান ।যেমন- রূপশ্রী, কন্যাশ্রী,যুবশ্রী শব্দ গুলো শুনতে ভালো লাগলেও ,যুবক- যুবতীদের মনে বিছরি রকমের প্রভাব ফেলেছে তা সরকারের অজানা নয়।

সামাজিক উন্নয়ন মানে মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়িয়ে দেওয়া ।আর চাহিদা বাড়াতে হলে মানুষের হাতে অর্থ চাই ।অর্থ মানে লক্ষ্মীভাণ্ডার।

লক্ষ্মীভাণ্ডারের অর্থ বেশীর ভাগ মহিলারা স্নো পাউডার,ঠোঁটের রঙ কিনে বিলাসিতা জীবন যাপন করছে কেউ বা সংসার খরচ করছে ।তবে তথ্য বলছে,প্রথম প্রকারের সংখ্যা বেশী ।গ্রামে-গ্রামে অন লাইন সোপিংএর বাইক মুহূর্ত মুহূর্ত ধূলা উড়িয়ে যাচ্ছে ।তার গাড়ি কালো ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে বেকার যুবক ।জনমুখী প্রকল্পের সুফল দেখে চিন্তা বাড়ে যুবকের।

কিন্তু সত্যি যাদের প্রয়োজন আছে সাহায্যের তারা কাগজ পত্তরের অভাবে বঞ্চিত হয়েছে এই প্রকল্প থেকে ।এমন শোনা গেছে দলের লোকরা নিজের বাড়ির কর্তীদের অ্যাকাউন্ট বেশি বেশী টাকা ঢুকিয়েছে।এ নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি ।এমন কি শ্রীময়ীকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়। পাড়ার মহিলারা মুখে রঙ মাখার টাকা যদি সরকারের কাছ থেকে পাই,এর চেয়ে আর কী উন্নয়ন আশা করা যাই।

সরকারের এখন দরকার ছিল কর্মসংস্থানে জোর দেওয়ার ।আজ প্রায় এক দশক স্বচ্ছ নিয়োগ নেই ।তরুণ তরুণীরা পথে ।অবরোধে- অনশনে ।বয়স বাড়ছে ।বিষণ্ণতা গ্রাস করছে ।কর্মসংস্থান করা সরকার বাহাদুরের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে ।বেকার ছেলে মেয়েদের মা-বাবা রাস্তা নেমে লক্ষ্মীর হাঁড়ি ভেঙে প্রতিবাদ করছে । সত্য সেলুকাস ।কী বিচিত্র দেশ !


Comments

Popular posts from this blog

দিদিকে বলো কর্মসূচী

দূর্নীতিটা নতুন নয়

বেলা গড়িয়ে