শিক্ষায় গলদ
সংবাদপত্রের রঙ করা গল্প নয় ।একেবারে বাস্তব । তার প্রমাণস্বরূপ এ রাজ্যে শিক্ষার বাস্তব রূঢ় ছবিটা নিশ্চল কারো নজর এড়ায় না ।
ছবিটা আরো করুণে পরিণত করেছে করোনাকাল ।বিশেষ করে গ্রাম্য বিদ্যালয়গুলির অবস্থা দেখলে বোঝা যায় শিক্ষার মান কোথায়? সরকারী ও সরকার পোষিত স্কুলগুলির পরিণত সবচেয়ে খারাপ ।বেশির ভাগই স্কুলে নেই শিক্ষক ।দীর্ঘদিন নিয়োগ নেই। শূন্যপদ পূরণ হয়নি ।স্বচ্ছতার অভাবে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা ।আকছার দেখা যাচ্ছে এক জন শিক্ষক বা শিক্ষিকা চালাচ্ছেন একটা আস্ত স্কুল ।বিচিত্র লাগে,না ।এটাই বাস্তব ।অন্যদিকে সারা রাজ্যে বেসরকারী সেগুলোর ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে ।পয়সাওয়লাদের শিক্ষার দোকান ।দরিদ্র মধ্যবিত্তদের স্বপ্নাতীত ।সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য গরীবদের এই একটাই পথ
।
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক ছাত্র অনুপাত ঠিক মতো থাকলে শিক্ষার মান কিন্তু ধরে রাখতে পারেননি ।তার কারণ বাম আমল থেকে পার্টি কেয়ার শিক্ষক তৈরি করা ।বাম আমলকে অনুসরণ করে বর্তমান আনলে একই অবস্থা ।তাই প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষা হয়নি,ক্যাডার পোষিত হচ্ছে ।
অপরদিকে বেসরকারী স্কুলগুলি টিউশনি ফিজের যেমন বাড়াবাড়ি আছে, তেমনি কম মাইনায় শিক্ষকদের খাটিয়ে নেওয়ারও প্রবণতা রয়েছে ।আছে কতৃকপক্ষের চোখ রাঙানি ।জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ পর্যন্ত কাজ করানো । তাই শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন করা বোকামী।
পরিকাঠামো প্রসঙ্গটি শিক্ষা মানকে আরো আরো কমিয়েছে ।সরকারী স্কুল না আছে পানীয় জল,না আছে শৌচাগার । গ্রামের দিকে স্কুলগুলিতে দিদিমনিদের জন্য শৌচাগার থাকলেও ঋতুমতী মেয়েদেরও তা ব্যবহার করতে দেন না ।তাই ছাত্রীরা ঋতু চলাকালীন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে । বাউন্ডারিহীন,ছাদ চুঁয়ে জল পড়া,ব্ল্যাকবোর্ডহীন ক্লাসরুম আঁকছার দেখা যায় ।সরকারী শিক্ষা ব্যবস্থার এই করুণচিত্রটি তৈরি হাওয়ার আসল কারণ শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনীতিকরণ ।
বর্তমান সরকার শিক্ষকদের বদলি জন্য এনেছে নতুন প্রকল্প উৎসশ্রী । যার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ খুব সহজে নিজের পছন্দ মতো বাড়ির পাশাপাশি বদলি হচ্ছেন ।এর ফলস্বরূপ দেখা যাচ্ছে গ্রামেরদিকের স্কুলগুলি শিক্ষক শূন্য হয়ে পড়ছে।যার ফলস্বরূপ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সুষ্টভাবে পরিচালনা করা অসম্ভব হবে পড়ছে।
Comments
Post a Comment